BAITUL MAMUR JAME MOSQUE & AL-JAMIATUL ISLAMIA MODINATUL ULUM MADRASHA & DARUL AITAM

বায়তুল মা"মুর জামে মসজিদ ও আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মদিনাতুল উলুম [মাদরাসা] ও এতিমখানা

বিভাগসমূহ:
[ক] মকতব ও নাজরো বভিাগ: (১৯৮৭ ইং)
এ বিভাগে ২ বৎসরের কোর্সে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকমন্ডলি দ্বারা শিশুদের নূরানি পদ্ধতিতে বিশুদ্ধরূপে কুরআন শরিফ শিক্ষা দেয়ার পর আমপারা [পবিত্র কুরআনের ৩০ নং পাড়া] মুখস্থ করানো হয় এবং অযু-গোসল, নামায, রোযা ইত্যাদি দ্বীনের মৌলিক বিষয়ের প্রয়োজনীয় দু‘আ ও মাসায়িল শিক্ষা দেওয়া হয়।
[খ] তাহফিযুল কুরআন বিভাগ: (১৯৮৭ ইং)
এ বিভাগে মকতব-নাজেরা হতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেধাবী ও যোগ্য ছাত্রদেরকে অনূর্ধ্ব ৩ বছরে সহিহ-শুদ্ধভাবে পবিত্র কুরআনুল কারিমের হিফয সম্পন্ন করানোর মাধ্যমে একজন আদর্শবান ও যোগ্য হাফিযে কুরআন হিসেবে গড়ে তোলা হয়।
[গ] কিতাব বিভাগ: (২০০৪-০৫ইং / ১৪২৪-২৫ হি.)
এ বিভাগটি জামি‘আর পূর্ণাঙ্গ ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সমৃদ্ধ প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ। মকতব-নাজেরা ও হিফয সমাপনকারী ছাত্রদেরকে মাত্র ৯-১০ বৎসরে কুরআন, হাদিস, ফিকহ, তাফসির, উসূল, আরবি সাহিত্য, বালাগাত, আরবি ব্যাকরণ ও যুক্তিবিদ্যাসহ ধর্মীয় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারদর্শী করে বিজ্ঞ আলেম হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এ বিভাগে উত্তীর্ণ ছাত্রদেরকে সনদপত্র প্রদান করা হয় এবং সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি সম্মানি হিসাবে পাগড়ি প্রদান করা হয়। বর্তমান সরকার কর্তৃক কাওমি মাদরাসার শিক্ষার যে স্বীকৃতিপ্রদান করা হয়েছে আমাদের প্রতিষ্ঠানটিও তার অন্তর্ভুক্ত। সরকার কর্তৃক স্বীকৃতি প্রদানের বিবরণ। যথ: মঙ্গলবার, ২৮ চৈত্র ১৪২৩ বাংলা, ১৩ রজব ১৪৩৮ হিজরি, ১১ এপ্রিল ২০১৭ ইসাব্দ সন্ধ্যায় গণভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে, কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ও দারুল উলূম দেওবন্দের মূলনীতিকে ভিত্তি ধরে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান প্রদানের ঘোষণা দেন। ১৩/৪/২০১৭ তারিখে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সহকারী সচিব (স.বি.-১) জনাব আবদুস সাত্তার মিয়া এ মর্মে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন। সোমবার, ২৬ ভাদ্র ১৪২৫ বাংলা, ২৯ যিলহজ্জ ১৪৩৯ হিজরি, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখ “‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন ‘কওমি মাদরাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান প্রদান বিল ২০১৮” জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয় এবং বুধবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বাংলা, ৮ মুহাররম ১৪৪০ হিজরি, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখ জাতীয় সংসদে এ বিল পাস হয়। সোমবার, ২৩ আশ্বিন ১৪২৫ বাংলা, ২৭ মুহাররম ১৪৪০ হিজরি, ৮ অক্টোবর ২০১৮ তারিখ এ বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে এবং সর্বসাধারণের অবগতির জন্য সংসদ সচিবালয় কর্তৃক গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। বর্তমানে কওমি মাদরাসার ৬ টি বোর্ডের [আমাদের এই জামি‘আ বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের] অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশের সব ক’টি দাওরায়ে হাদিস কওমি মাদরাসা এ আইনে উল্লিখিত কমিটি দ্বারা নিবন্ধিত। বাংলাদেশের সকল কওমি মাদরাসা দারুল উলূম দেওবন্দের চিন্তাধারা, দৃষ্টিভঙ্গি, সিলেবাস ও মূলনীতি অনুসরণ করে।
[ঘ] ফতোয়া বিভাগ: (২০১৯-২০ ইং / ১৪৪০-৪১ হি.)
এই জামি‘আয় অভিজ্ঞ মুফতিগণের সমš^য়ে গঠিত একটি উচ্চমানসম্পন্ন ফতোয়া বিভাগ তথা উচ্চতর ইসলামি আইন গবেষণা বিভাগ রয়েছে। পাকিসতানের সাবেক বিচারপতি ফকিহুন নফস আল্লামা মুফতি তকী উসমানি সাহেব দামাত বারাকাতুহুম এর যোগ্য উত্তরসূরী ও হাতে গড়া ছাত্র আল্লামা মুফতি শাব্বীর আহমদ সাহেব দামাত বারাকাতুহুম এর তত্ত¡বধানে ২৪ ঘন্টা অভিজ্ঞ মুশরিফের নেগরানি দ্বারা পরিচালিত এবং বিভিন্ন ফনের পর্যাপ্ত কিতাবের ব্যবস্থাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন একটি অনন্য দারুল ইফতা। এখান থেকে জনসমাজের সাধারণ ও জটিল বিভিন্ন মাসায়িল [ইহকালিন-পরকালিন যাবতীয় সমস্যার] শরয়ি সঠিক সমাধান প্রদান করা হয়।
[ঙ] জেনারেল বিভাগ: (২০০৪-০৫ইং / ১৪২৪-২৫ হি.)
এ বিভাগে দ্বীনি শিক্ষার পাশা-পাশি দরসে নিযামির কাফিয়া-শরহে জামি ক্লাস পর্যন্ত গুরত্ব সহকারে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ ইতিহাস ও ভুগোল পড়ানো হয়।