BAITUL MAMUR JAME MOSQUE & AL-JAMIATUL ISLAMIA MODINATUL ULUM MADRASHA & DARUL AITAM

বায়তুল মা"মুর জামে মসজিদ ও আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মদিনাতুল উলুম [মাদরাসা] ও এতিমখানা

পরীক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়া:
আমাদের জামিয়ায় ছাত্রদের লেখা-পড়ার মান উন্নয়ন এবং পঠিত বিষয় সমূহ পূর্ণ আয়ত্ব করার লক্ষ্যে বৎসরে মোট তিনটি পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। তার মধ্যে প্রথম পরীক্ষা সাধারণত আরবি সফর মাসের প্রথম সপ্তাহে আর দ্বিতীয় পরীক্ষা আরবি জুমাদাল উলার প্রথম সপ্তাহে এবং সর্বশেষ বার্ষিক পরীক্ষা আরবি শা‘বান মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এছাড়া ছাত্রদের পড়া-লেখার মান উন্নয়ণসহ পাঠ্য বিষয়ের প্রতি বিশেষ মনযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাসিক এবং সাপ্তাহিক পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাসিক এবং সাপ্তাহিক পরীক্ষা মৌখিক ও লিখিত উভয় ভাবে গ্রহণ করা হয়। সাপ্তাহের শনিবারে পরীক্ষা গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষা সেই বিষয়ের জন্য নির্ধারিত ক্লাসের সময়ে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকগণ গ্রহণ করে থাকেন।
আমাদের জামিয়ায় ছাত্রদের বার্ষিক পরীক্ষা সর্বমোট চারটি বোর্ডের অধিনে হয়ে থাকে। যথা: [১] আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কাওমিয়্যাহ বাংলাদেশ। এই বোর্ডের অধিনে দাওরায়ে হাদিস বা তাকমিল (স্নতকোত্তর) জামাতের ছাত্ররা বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। [২] বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ। এই বোর্ডের অধিনে মোট ৪ টি ক্লাসের ছাত্ররা বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে থাকে। ক. মারহালায়ে ফযিলত (মিশকাত জামাত)। খ. মারহালায়ে সানাবিয়াতুল উলয়া (শরহে বিকায়া জামাত)। গ. মারহালায়ে মুতাওয়াস সিতাহ (নাহবেমির জামাত)। ঘ. মারহালায়ে ইবতিদাইয়্যাহ (তাইসির জামাত)। [৩] ইত্তিহাদুল মাদারিসিল কাওমিয়া সাভার (সাভার উপজেলা কাওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড)। এই বোর্ডের অধিনে মারহালায়ে ইবতিদাইয়্যাহ সানি (মিযান জামাত) এর ছাত্ররা বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে থাকে। [৪] জামিয়ার আভ্যন্তরীণ পরীক্ষা বোর্ড। এই বোর্ডের অধিনে জামিয়ার অবশিষ্ট ক্লাসের ছাত্ররা বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে থাকে। যথা: ক. ফতোয়া বিভাগ। খ. জালালাইন জামাত। গ. কাফিয়া / শরহে জামি জামাত। ঘ. হিদায়াতুন্নাহু জামাত। ঙ. খুসুসি জামাত। চ. হিফযুল কুরআন বিভাগ। ছ. নাজেরা বিভাগ। জ. আদর্শ নূরানি ও মকতব বিভাগ।
ফলাফলের মান নির্ণয়:
ফতোয়া বিভাগ ও কিতাব বিভাগ:
এই দুই বিভাগের ছাত্রদের ফলাফলের মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আমরা তাদের পাশের বিভাগ যেভাবে নির্ধারণ করে থাকি। কোনো ছাত্র নিজ ক্লাসের সকল বিষয়ে
শতকরা ৮০% হারে নম্বর পেলে সে মুমতায স্তরে উত্তির্ণ
শতকরা ৬৫% হারে নম্বর পেলে সে জায়্যিদ জিদ্দান স্তরে উত্তির্ণ
শতকরা ৫০% হারে নম্বর পেলে সে জায়্যিদ স্তরে উত্তির্ণ
শতকরা ৩৫% হারে নম্বর পেলে সে মাকবুল স্তরে উত্তির্ণ হয়ে থাকে।
কেউ যদি সে নিজ ক্লাসের সকল বিষয়ে শতকরা ৩৫% হারের কম নম্বর পায় তবে সে রাসিব বা ফেল বলে বিবেচিত হয়। এক্ষেত্রে বার্ষিক পরীক্ষায় কেউ যদি নিজ ক্লাসের মৌলিক কোনো বিষয়ে ফেল করে তাহলে পরবর্তি বছর সে পরবর্তি ক্লাসে ভর্তি হতে পারবে না। হয়তোবা পূর্বের ক্লাসেই পড়তে হবে অথবা পরীক্ষায় অকৃতকার্য বিষয়গুলো পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তি ক্লাসে ভর্তি হতে পারবে।
আর যদি সাময়িক কোনো পরীক্ষায় ফেল করে কিংবা বর্ডিংয়ের ফ্রি খাবারের জন্য নির্ধারিত নম্বর না পায় তাহলে পরবর্তি পরীক্ষা পর্যন্ত ফ্রি খানা অথবা পূর্ণ কিংবা আংশিক টাকা দিয়ে খানা গ্রহণকারীগণ অতিরিক্ত এক মাসের পূর্ণ টাকা দিয়ে পুনরায় খানা জারি করতে হবে।
কেউ যদি মাদরাসার নির্ধারিত সাময়িক, বার্ষিক কিংবা বোর্ডের পরীক্ষাগুলোতে অংশ গ্রহণ না করে তাহলে পরবর্তিতে মাদরাসায় উপস্থিত হয়ে অংশগ্রহণ না করার যুক্তিযুক্ত কারণ দেখাতে পারলে পরীক্ষার ফি প্রদান করত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ ও ক্লাসে বসার আবেদন করে শিক্ষাসচিবের বরাবর দরখাসত লিখে মঞ্জুর করাতে হবে এবং যথারীতি সকল বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হবে।
আর যদি যুক্তিযুক্ত কারণ দেখাতে না পারে তাহলে [এক্ষেত্রে অভিযুক্ত তালিবুল ইলম বর্ডিং থেকে যে পদ্ধতিতেই খানা গ্রহণ করে থাকুক না কেন] অতিরিক্ত এক মাসের খানার টাকা জমা দিয়ে পরীক্ষার ফি প্রদান করত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ ও ক্লাসে বসার আবেদন করে শিক্ষাসচিবের বরাবর দরখাসত লিখে মঞ্জুর করাতে হবে এবং যথারীতি সকল বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হবে।
হিফযুল কুরআন বিভাগ:
এই বিভাগের ছাত্রদের ফলাফলের মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আমরা তাদের পাশের বিভাগ যেভাবে নির্ধারণ করে থাকি। এই বিভাগে দুই বিষয়ে পরীক্ষা হয়। এক. তাহফিযুল কুরআন। দুই. তাজবিদুল কুরআন। সুতরাং কোনো ছাত্র কুরআনুল কারিমের তিলাওয়াতে ৮০ সহ সর্বমোট দুই বিষয়ে যদি ১৭০ নম্বর পায় তাহলে সে মুমতায স্তরে উত্তির্ণ হবে। আর যদি তিলাওয়াতে ৭০ সহ সর্বমোট দুই বিষয়ে ১৫০ নম্বর পায় তাহলে সে জায়্যিদ জিদ্দান স্তরে উত্তির্ণ হবে। আর যদি তিলাওয়াতে ৬০ সহ সর্বমোট দুই বিষয়ে ১২০ নম্বর পায় তাহলে সে জায়্যিদ স্তরে উত্তির্ণ হবে। আর যদি তিলাওয়াতে ৫০ সহ সর্বমোট দুই বিষয়ে ৯০ নম্বর পায় তাহলে সে মাকবুল স্তরে উত্তির্ণ হবে। তবে কেউ যদি কুরআনুল কারিমের তিলাওয়াতে ৫০ এর কম পেয়ে দুই বিষয়ে সর্বমোট ৯০ নম্বরও পায় তাহলেও সে রাসিব বা ফেল বলে বিবেচিত হবে।
নাজেরা ও মকতব বিভাগ:
এই দুই বিভাগের ছাত্রদের ফলাফলের মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আমরা তাদের পাশের বিভাগ যেভাবে নির্ধারণ করে থাকি। কোনো ছাত্র নিজ ক্লাসের সকল বিষয়ে
শতকরা ৮০% হারে নম্বর পেলে সে মুমতায স্তরে উত্তির্ণ
শতকরা ৬৫% হারে নম্বর পেলে সে জায়্যিদ জিদ্দান স্তরে উত্তির্ণ
শতকরা ৫০% হারে নম্বর পেলে সে জায়্যিদ স্তরে উত্তির্ণ
শতকরা ৩৫% হারে নম্বর পেলে সে মাকবুল স্তরে উত্তির্ণ হয়ে থাকে।
কেউ যদি সে নিজ ক্লাসের সকল বিষয়ে শতকরা ৩৫% হারের কম নম্বর পায় তবে সে রাসিব বা ফেল বলে বিবেচিত হয়। এক্ষেত্রে বার্ষিক পরীক্ষায় কেউ যদি নিজ ক্লাসের মৌলিক কোনো বিষয়ে ফেল করে তাহলে পরবর্তি বছর সে পরবর্তি ক্লাসে ভর্তি হতে পারবে না। হয়তোবা পূর্বের ক্লাসেই পড়তে হবে অথবা পরীক্ষায় অকৃতকার্য বিষয়গুলো পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তি ক্লাসে ভর্তি হতে পারবে।
বি.দ্র. নাজেরা বিভাগ হতে যারা নির্বাচিত হয়। মুলত তাদের মধ্য হতেই কেউ হিফযুল কুরআন বিভাগে ভর্তি হয়। আবার কেউ কিতাব বিভাগে ভর্তি হয়। তাই তাদের বার্ষিক পরীক্ষা ও পরীক্ষা পরবর্তি ফলাফলের মান যাচাই খুব সতর্কতার সাথেই হয়ে থাকে।