BAITUL MAMUR JAME MOSQUE & AL-JAMIATUL ISLAMIA MODINATUL ULUM MADRASHA & DARUL AITAM

বায়তুল মা"মুর জামে মসজিদ ও আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মদিনাতুল উলুম [মাদরাসা] ও এতিমখানা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সংশােধিত

গঠনতন্ত্র

ধারা ১ (এক) - নামঃ বায়তুল মামুর জামে মসজিদ ও আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মদিনাতুল উলুম (মাদরাসা) ও এতিমখানা। যাহা গঠনতন্ত্রের প্রতিষ্ঠান হিসাবে লিপিবদ্ধ থাকিবে।

ধারা ১ (ক)-ঃ ঢাকা জেলাধীন সাভার থানার, সাভার মৌজার রাজালাখ কৃষি ফার্ম হইতে পশ্চিম দিকে প্রসারিত রাস্তার উত্তর সংলগ্ন ব্যাংক কলােনীতে, এই মসজিদ ও মাদরাসার অবস্থান।

ধারা ১ (খ) - সীমানাঃ অত্র মসজিদ ও মাদরাসা, ব্যাংক কলােনী মাদরাসা সংলগ্ন এলাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা উক্ত মসজিদ ও মাদরাসার এলাকা হিসাবে গণ্য হইবে।

ধারা ২ (দুই) - পরিচিতিঃ
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হইবার কিছুকাল পর ১৯৬৭ইং সালে তদানিন্তন “স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান ইমপ্লেইজ কো-অপারেটিভ, ক্রেডিট সােসাইটি লিমিটেড" নামে একটি সমবায় সমিতি গঠন পূর্বক বসবাসের জন্য কিছু জমি ক্রয় করেন এবং তাহাদের “এ" ব্লকে উক্ত মসজিদের জন্য ২৩ (তেইশ) শতাংশ জমি ওয়াক্‌ফ করেন। অতঃপর উক্ত সমবায় সমিতির (বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংক সমবায় সমিতি নামে পরিচিত) বরাদ্দ প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ ও স্থানীয় জনসাধারণ প্রাথমিক অবস্থায় ছােট একটি টিনের ছাপড়া তৈরী করিয়া মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করিতে থাকেন। বর্তমানে যাহার প্রস্থ ৫২ফুট (বারান্দাসহ) দৈর্ঘ্য ৭৪ ফুট। বিগত ১৯৮৭ইং-এ এই মসজিদের সাথে একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে তকালীন কার্যনির্বাহী পরিষদগণের প্রচেষ্টা ও এলাকাবাসীগনের দান ও অনুদানের মাধ্যমে মসজিদ সংলগ্ন আরও ১৭.৫ শতাংশ জমি উক্ত বাংলাদেশ ব্যাংক সমবায় সমিতি হইতে ক্রয় করেন। ১৯৯২ সালে তৎসংলগ্ন ৮.২৫ শতাংশ জমি অনুদান হিসাবে পাওয়া যায়। উক্ত ক্রয়কৃত ও অনুদান হিসাবে পাওয়া জমির উপর আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মদিনাতুল উলুম (মাদরাসা) নামে একটি মাদরাসা দান ও অনুদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। তৎপরবর্তীতে ব্যাংক। কলােনী 'বি' ব্লকের কলেজ রােডস্ত আরও ৪ শতাংশ জমি অনুদান হিসাবে পাওয়া যায়। যাহারা এই মসজিদ ও মাদরাসার উন্নয়নের জন্য দান করিয়াছেন, করিতেছেন বা ভবিষ্যতে করিবেন তাহাদের উপর কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহুর শান্তি বর্ষিত হউক। যেহেতু মসজিদ আল্লাহর ঘর ও মুসলমানের অতি পবিত্রস্থান এবং মাদরাসা দ্বীন ইসলাম প্রচারের একটি পবিত্র আমানত, কাজেই উহার পবিত্রতা রক্ষার জন্য সকলকে সর্বদা নিরপেক্ষ এবং দল ও মতের উর্ধ্বে থাকিয়া ইহার খেদমত একমাত্র আল্লাহর রেজামন্দি হাসিল করিবার উদ্দেশ্যেই করা উচিৎ।

ধারা ৩ (তিন) - সাধারণ সদস্য হইবার যোগ্যতাঃ
সংশ্লিষ্ট সীমানার (ধারা ১-খ) মধ্যে যে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমান এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য হইতে পারিবেন। তবে উক্ত সদস্যকে নামাজী হইতে হইবে। এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন খাতে মাসিক অনুদান। প্রদান করিতে হইবে। এ ক্ষেত্রে মাদরাসা তহবিলে নুন্যতম ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা এবং মসজিদ তহবিলে ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা মােট ১০০ (একশত) টাকা পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন হারে অনুদান প্রদান করিতে হইবে। যে কোন মুসলিম মহিলাও অত্র প্রতিষ্ঠানে অনুদান করিতে পারিবেন, কি তাহাদের কোন ভােটাধিকার থাকিবে না। তবে তার মনােনীত প্রনিনিধি (পুরুষ) ভােট প্রদান। করিতে পারিবেন।

ধারা ৩ (ক) ভােটার হইবার যোগ্যতাঃ
সদস্য হইবার পর হইতে সদস্যগণ নিয়মিত ভাবে মাসিক অনুদান প্রদান করিলে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের একজন ভােটার হিসাবে বিবেচিত হইবেন অর্থাৎ সদস্য হইবার পর হইতে ভোট গ্রহনের পূর্ব পর্যন্ত (নির্বাচন কমিশনারের উল্লেখিত নােটিশ মােতাবেক) মাসিক অনুদান পরিশোধকারীগণই ভােটার হইবার যােগ্যতা রাখেন। নতুন সদস্যদের ক্ষেত্রে কোন ক্রমেই ০৬ (ছয়) মাসের কম নয় ।

ধারা ৩ (খ) -ঃ কার্যনির্বাহী পরিষদে অংশগ্রহন করার যােগ্যতাঃ কার্যনির্বাহী পরিষদে অংশগ্রহণকারী অবশ্যই ধারা ৩ (ক) পূরণ করবেন। যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন ব্যক্তিদের সাহায্য সহযােগিতা ও অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তাই কার্যনির্বাহী পরিষদে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের দান শীল হওয়া একান্ত প্রয়োজন এবং তাহাদের কার্যনির্বাহী পরিষদ পরিচালনার জন্য নূন্যতম জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে।

ধারা ৩ (গ) - সদস্য পদ বাতলঃ
কোন সদস্য ইসলামী বিধিবিধান সরাসরি লজণ করিলে বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহন করিলে বা নিয়মিত মাসিক অনুদান একাধারে ৬ (ছয়) মাস প্রদান না করিলে তাহার সদস্য পদ বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে। পুনরায় তাহাকে নতুন ভাবে সদস্য পদ গ্রহন করিতে হইবে।

ধারা ৩ (ঘ)-ঃ কোন আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হইলে বা সাজা প্রাপ্ত হইলে বা সাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া গেলে তাহার সদস্য পদ বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।

ধারা ৩ (ঙ) - কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন পদ্ধতিঃ
কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন দুটি পদ্ধতিতে হইতে পারে, মনােয়ন অথবা গোপন ভোট প্রদানের মাধ্যমে। মনােনয়ন পদ্ধতি দ্বারা কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন খুবই সহজ ও ঝামেলা মুক্ত। তাহা ছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে এই নিয়ম গ্রহণ করা সকল সম্মানিত সদস্যগনদের একান্ত কাম্য। এই পদ্ধতিতে। যদি কখনও কোন প্রকার জটিলতা বা সদ্যসগণদের মতবিরোধ দেখা দেয় অথবা চলমান নির্বাহী কমিটি/আহ্বায়ক কমিটি/নির্ধারিত নির্বাচন কমিশনার যদি একান্তই মনে করেন, কেবলমাত্র সেই ক্ষেত্রে মনােনয়ন পদ্ধতির পরিবর্তে গােপন বেলটের মাধ্যমে কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা যাইতে পারে।

ধারা নং ৪ (চার) - কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন পদ্ধতিঃ
ধারা ৪ (ক) : চলমান কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদান্তের অন্তত তিন মাস পূর্বে নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ। গঠন কল্পে চলমান কার্যনির্বাহী পরিষদ তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযােগ্য নির্বাচন। কমিশিন গঠন করিবেন। নব গঠিত নির্বাচন কমিশনের একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং বাকী। দুইজন কমিশনার হিসেবে গণ্য হইবেন। নির্বাচন কমিশন চলমান কার্যনির্বাহী পরিষদের পরামর্শ মােতাবেক তাহাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠনের কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন। এতদ্বউদ্দেশ্যে গঠিত নির্বাচন কমিশন সাধারণ সদস্যদের নাম ও পূর্ণঠিকানা সহ একটি। ভােটার তালিকা প্রস্তুত করিয়া মসজিদ ও মাদরাসার নােটিশ বোর্ডে টানাইয়া দিবেন। সাথে সাথে। নির্বাচনের তারিখ ও ঘােষনা করিয়া দিবেন। মসজিদে জুম্মার নামাজের পূর্বেও যথা সময়ে ঘােষনা করিতে হইবে। এই কাজটি অবশ্যই নির্বাচন নির্ধারিত তারিখের কমপক্ষে ৭ থেকে ১৫ দিন পূর্বে। হইতে হইবে। প্রতিষ্ঠানের কোন নির্ধারিত স্থানে শান্তি পূর্ণ পরিবেশে নির্ধারিত দিনে কার্যনির্বাহী। পরিষদ গঠনের কার্যকলাপ অনুষ্ঠিত হইবে। বিশেষ কোন কারণে যেমনঃ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাষ্ট্রীয় কোন জরুরী অবস্থার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলমান পরিষদ নতুন নির্বাচনের কার্যক্রম সমাপ্ত করিতে না পারিলে চলমান কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণের পরে অনুর্ধ তিন মাসের মধ্যে অবশ্যই নির্বাচনের তিনি জরুরী প্রয়োজনে যে কোন সময় কার্য নির্বাহী সভা আহবান ও মুলতবী মোেমনা করিতে পালিবেন। বিশেষ পরিস্থিতির উদ্ভব হইলে তিনি দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনের ভিত্তিতে কার্যনির্বাহী পরিষদ ভাঙ্গিয়া দিতে পারিবেন। সভাপতি প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয়োজন মিটানাে জন্য বিধিসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন। সভাপতির উপর দুই তৃতীয়াংশ সপসের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনাস্থা প্রস্তাব আসিলে তাহা বাস্তবায়ন হইবার পর বিধি মোতাবেক যথাক্রমে সিনিয়র সহ-সভাপতি যাবতীয় কার্যাদি সম্পাদন করিবেন এবং সিনিয়র সহ-সভাপতির অনুপস্থিতিতে সহ,তাপতি ১ ও সহ সভাপতি ২ যথাক্রমে বর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন।

ধারা ৬ (খ) - সহ সভাপতিঃ
সভাপতির অনুপস্থিতিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি সভার কার্য পরিচালনা করিবেন এবং অন্যান্য দায়িত্ব যাহা সভাপতির উপর দেওয়া হইয়াছে তাহাও সম্পাদন করিবেন। সিনিয়র সহ-সভাপতির অনুপস্থিতিতে সহ সভাপতি-১ ও সহ সভাপতি-২ যথাক্রমে বর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন।

ধারা ৬ (গ) - সাধারণ সম্পাদকঃ
বিভিন্ন সভা আহবান, সমস্ত আয় ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ তদারকী ও সংরক্ষণ এবং সকল কাজ। দেখাশুনা করার ভার তাহার উপর ন্যাস্ত থাকিবে। মসজিদ ও মাদরাসার উন্নয়ন মূলক কাজের (নির্মাণ বা মেরামত ইত্যাদি) সার্বিক দায়িত্ব তাহার উপর ন্যাস্ত থাকিবে। তার তত্ত্বাবধানে মসজিদ ও মাদরাসার সমস্ত সম্পত্তির নথিপত্র সংরক্ষিত থাকিবে। কোষাধ্যক্ষের দাখিলকৃত হিসাব পরীক্ষা নিরীক্ষা পূর্বক প্রতি ৩ (তিন) মাস অন্তর অন্তর কার্য নির্বাহী পরিষদে দাখিল করিবেন।

ধারা ৬ (ঘ) - যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকঃ
তিনি সাধারণ সম্পাদককে সকল কাজে সহায়তা করিবেন। সাধারণ সম্পাদক বিশেষ কোন কারণে অনুপস্থিত থাকিলে সাধারণ সম্পাদকের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করিবেন।

ধারা ৬ (ঙ) - কোষাধ্যক্ষঃ
মসজিদ ও মাদরাসার সকল তহবিল সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের জ্ঞাতসারে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে। থাকিবে। আয়-ব্যয়ের চলতি/বাৎসরিক হিসাব কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক চাহিবা মাত্র পেশ করিবেন। তাহার অপসারণ বা ইস্তফা প্রদানের ক্ষেত্রে সকল তহবিল বা হিসাবের সকল কাগজপত্রাদি এবং তাহার দায়িত্বে ন্যাপ্ত মসজিদ ও মাদরাসার অন্যান্য সম্পদ সভাপতির অনুমতিক্রমে কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদকের নিকট অথবা কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক মনােনীতপ্রতিনিধির নিকট বুঝাইয়া দিবেন।

ধারা ৬ (চ) - দফতর সম্পাদকঃ
সমস্ত রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ এবং সমস্ত সভার কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধ/সম্পাদনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ভার তাহার উপর ন্যাস্ত থাকিবে।

ধারা ৬ (ছ) - সদস্যবৃন্দের দায়িত্বঃ
কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক তাহাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করিবেন।

ধারা ৭ (সাত) -ঃ মসজিদ ও মাদরাসার তহবিল সংরক্ষণ ও পরিচালনা পদ্ধতি :
ধারা ৭ (ক) -ঃ মসজিদ ও মাদরাসার আদায়কৃত যাবতীয় অর্থ বাংলাদেশের যে কোন তাফসিলী ব্যাংকে এক। বা একাধিক হিসাব খােলার মাধ্যমে গচ্ছিত রাখিতে হইবে।
ধারা ৭ (খ) -ঃ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষরে উক্ত হিসাব পরিচালিত হইবে।

ধারা ৭ (গ) -ঃ ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোষাধ্যক্ষসহ (অবশ্যই) সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এর যে কোন এক জনের স্বাক্ষর লাগিবে।

ধারা ৭ (ঘ) -ঃ প্রতিষ্ঠানের ভারী প্রয়ােজনে সাধারণ সম্পাদক ৫,০০০,০০(পাঁচ হাজার) টাকা নিজ দায়িত্বে।খরচ করিতে পারিবেন। তবে উক্ত খরচের হিসাব পরবর্তী নির্বাহী সভায় অনুমােদিত হইতে হইবে।এইরূপ ক্ষেত্রে কোষাধ্যক্ষ ৫,০০০,০০(পাঁচ হাজার) টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ হাতে রাখিতে পারিবেন।

ধরি ৭ (ঙ) -ঃ কার্যনির্বাহী পরিষদ বাৎসরিক হিসাব নিরীক্ষা করার জন্য ৩ (তিন) সদস্য বিশিষ্ট একটি হিসাব।নিরীক্ষা কমিটি গঠন করিবেন। প্রয়ােজনে প্রতিষ্ঠিত নিরীক্ষা (অডিট ফার্মের) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হিসাব নিরীক্ষা করিতে হইবে। ধারা ৭ (চ) ও প্রতি বৎসরের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত হিসাব সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক (নিরীক্ষা কমিটি/নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাক্ষরসহ) কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুমােদনের জন্য দাখিল করিতে হইবে।

ধারা ৮ (আট) ৪ সভা পরিচালনার নিয়মাবলীঃ
ধারা ৮ (ক)-ঃ সাধারণ সভা এবং কার্যনির্বাহী সংসদের সভা সাধারণ সম্পাদক সভাপতির অনুমতি সাপেক্ষে আহ্বান করিবেন। জরুরী পরিস্থিতির উদ্ভব হইলে সভাপতি নিজেই সরাসরি সভা আহ্বান করিতে পারিবেন।

ধারা ৮ (খ) : সাধারণ সভা প্রয়ােজনে যে কোন সময় অনুষ্ঠিত হইবে এবং কার্যনির্বাহী সভা প্রতি ৩ (তিন) মাস অন্তর অন্তর একবার য নুষ্ঠিত হইবে।

ধারা ৮ (গ) -ঃ সাধারণ সভার ক্ষেত্রে কার্যনির্বাহী পরিষদ হইতে ৭ (সাত) জন এবং সাধারণ সদস্য হইতে ২ অংশ সদস্যের সমন্বয়ে কোরাম গঠিত হইবে। তবে কার্যনির্বাহী সভার ক্ষেত্রে একতৃতীয়াংশ সদস্যের সমন্বয়ে কোরাম গঠিত হইবে।

ধারা ৮ (ঘ) -ঃ যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়ে মীমাংসার নিমিত্তে সাধারণ সদস্যগণ কোন সভায় মিলিত হওয়ার প্রয়ােজন মনে করেন, তবে অন্ততঃ ৫০(পঞ্চাশ) জন সদস্য কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি সভা। আহ্বানের আবেদন পত্র সাধারণ সম্পাদকের নিকট প্রদান করিলে, সাধারণ সম্পাদক সভাপতির সাথে পরামর্শ করিয়া সভার তারিখ নির্ধারণ পূর্বক উক্ত আবেদনপত্র প্রাপ্তির ৭ (সাত) দিনের মধ্যে সভা আহ্বান করিবেন।

ধারা ৮ (ঙ) -ঃ কোরাম পূর্ণ না হওয়ার কারণে যদি সভা করা সম্ভব না হয় তবে সাধারণ সভার ক্ষেত্রে সভা। পরবর্তী ১৫ (পনের) দিনের জন্য স্থগিত থাকিবে এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের ক্ষেত্রে সভা পরবর্তী ৭। (সাত) দিনের জন্য স্থগিত থাকিবে। উভয় ক্ষেত্রে এই ব্যাপারে একটি নতুন নােটিশ প্রচার করিতে । হইবে। স্থগিত সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য কোরাম পূরণের কোন প্রয়ােজন হইবে না।

ধারা ৯ (নয়) - কার্যনির্বাহী পরিষদ পদচ্যুতি, অপসারণ, পদত্যাগ ইত্যাদিঃ
ধারা ৯ (ক) -ঃ
পদচ্যুতি/অপসারণঃ এই ক্ষেত্রে কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদেরকে দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি বা অপসারণের নিমিত্তে আহুত সভায় দুই তৃতীয়াংশ সদস্য কর্তৃক আনীত অনাস্থা প্রস্তাব পরিষদ কর্তৃক পাশ হইলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদেরকে অপসারণ করা যাইবে। তবে ইহা বাস্তবায়নের পূর্বে সংসদের অন্ততঃ ৯ (নয়) জন সদস্য কর্তৃক অনাস্থা প্রস্তাবনামা দরখাস্তের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদকের নিকট জমা দিতে হইবে। সাধারণ সম্পাদক আবেদনপত্রের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সদস্যকে প্রদান করিয়া ১৫(পনের) দিনের মধ্যে সভা আহ্বান করিবেন। সংশ্লিষ্ট সদস্যকে তাহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযােগের জবাব দানের সুযােগ দিতে হইবে।

ধারা ৯ (খ) -ঃ পদত্যাগ কার্যনির্বাহী পরিষদের যে কোন সদস্য উপযুক্ত কারণ দেখাইয়া পদত্যাগ করিতে পারিবেন। পদত্যাগ পত্র সাধারণ সম্পাার্দকের নিকট জমা দিতে হইবে। সাধারণ সম্পাদক উক্ত পত্র প্রাপ্তির ৭ (সাত) দিনের মধ্যে কার্যনিবহিী পরিষদকে অবহিত করাইবেন। কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক যতক্ষণ পর্যন্ত পদত্যাগপত্র অনুমােদিত না হইবে ততক্ষণ পর্যন্ত পদত্যাগ কার্যকরী বলিয়া গণ্য হইবে না।

ধারা ৯ (গ) -সদস্যপদ বাতিলঃ কার্যনির্বাহী পরিষদের কোন সদস্য একাধারে অতিসারে পর পর ৩ (তিন) টি কার্যকরী পরিষদের সভায় অনুপস্থিত থাকিলে এবং তাহার উপযুক্ত কারণ দর্শাইতে ব্যর্থ হইলে তাহার সদস্যপদ বাতিল হইবে।

ধারা ৯ (ঘ) -শূণ্যপদ পুরণঃ যদি কার্যনির্বাহী পরিষদের কোন পদ শূণ্য হয় তবে সাধারণ সম্পাদক সভাপতির অনুমতিক্রমে ৩ (তিন) মাসের মধ্যে ঐ ব্যাপারে আহত কার্যনির্বাহী পষিদের সভায় আলােচনার মাধ্যমে সংখ্যাধিক্যের ঐকমতের ভিত্তিতে ঐ পদে যােগ্য সদস্য মনােনীত করিতে পারিবেন।

ধারা ১০ (দশ) - নির্মাণ ও মেরামত কাজঃ
কার্যনির্বাহী পরিষদের লিখিত অনুমোদন ব্যতীত মসজিদ ও মাদরাসার কোন নির্মাণ অথবা পূণঃ নির্মাণ করা যাইবে না। তবে সভাপতির অনুমতিক্রমে জরুরী ভিত্তিতে নির্মাণ ও মেরামত সম্পন্ন করিয়া প্রবর্তী কার্যকরী সভায় অনুমােদন করাইয়া লইবেন।

ধারা ১১ (এগার) -ঃ
উপদেষ্টা পরিষদঃ মসজিদ ও মাদরাসার উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রের জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটি থাকিবে। উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সংখ্যা হইবে ১১ (এগার)। উপদেষ্টা কমিটির সদস্য অত্র মসজিদ ও মাদরাসার সীমানার বাহির হইতেও নেওয়া যাইনে যাহা কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক গঠিত হইবে।

ধারা ১২ (বার) - খতিৰ কাম ইমাম, মুয়াজ্জিন ও শিক্ষকগণ প্রসঙ্গেঃ
ধারা ১২ (ক) - খতিব কাম ইমামঃ একজন খতিব কাম ইমাম নিয়োগ ও বরখাস্ত সম্পর্কে খুবই সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার। কার্যনির্বাহী কমিটি অন্ততঃ একজন জবরদস্ত হক্কানী আলেমকে সঙ্গে লইয়া ইমাম নিয়োগ করিবেন। ইমাম সাহেব একজন অমায়িক, অভিজ্ঞ ও শরিয়তী সুন্নী মুসলমান হইতে হইবে। কুরআন ও হাদীসে পর্যাপ্ত জ্ঞানসহ অন্ততঃ পক্ষে ব্যারীয়ানসহ দাওরায়ে হাদীস পাশ হইতে হইবে। তাহাকে অবশ্যই বিবাহিত ও কমপক্ষে ৩৫ (পয়ত্রিশ) বৎসর বয়স্ক হইতে হইবে।

ধারা ১২ (খ) - মুয়াজ্জিনঃ মুয়াজ্জিন সাহেবকে সুললিত কষ্ঠসহ কমপক্ষে হাফেজ অথবা একজন কারী হইতে হইবে। তাহার বয়স ২৫ (পচিশ) বৎসরের কম হইবে না। তাহা ছাড়া ইমাম সাহেবের অনুপস্থিতিতে তাহাকে নামাজ পড়াইতে সক্ষম হইতে হইবে। তাহাকে সৎ, ধার্মিক, শরিয়তী সুন্নী মুসলমান হইতে হইবে। মসজিদ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা রাখা তাহার দায়িত্বে থাকিবে।

ধারা ১৩ (তের) -ঃ
ধারা ১৩ (ক) -ঃ কার্যনির্বাহী পরিষদ, সাধারণ সদস্যের অনুমােদন সাপেক্ষে নিম্ন বর্ণিত শর্তানুযায়ী এই গঠনতনের যে ( কোন শর্ত পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করার ক্ষমতা রাখিবেন।

ধারা ১৩ (খ) -ঃ এই নিমিত্তে একটি তালিকা সভার নােটিশ বহিতে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে ও উহার অনুলিপি সদর জায়গায় টাঙ্গাইয়া দিতে হইবে।

ধারা ১৩ (গ) -ঃ পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন শরীয়ত বিরােধী হইতে পারিবে না এবং গঠনতন্ত্রের মূল ভাবধারার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হইতে হইবে।

ধারা ১৪ (চৌদ্দ) -ঃ গঠনতন্ত্রনের অনুলিপি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট এবং অফিস নথিতে রক্ষিত থাকিবে । যে কোন ইচ্ছুক সদস্য অথবা মুসুল্লীগণ গঠনতন্ত্রনের অনুলিপি দেখিতে অথবা সংগ্রহ করিতে পারিবেন।

ধারা ১৫ঃ কার্যনির্বাহী পরিষদের সকল সদস্যকে সুন্নণ রাখিতে হইবে যে, তাহারা এমন কোন কাজ করিবেন না। অথবা এমন কোন কাজের সংস্পর্শে আসিবেন না যাহা মসজিদ ও মাদরাসার পবিত্রতা ও গৌরবের ক্ষতিকারক হয়।

ধারা ১৫ (ক)-ঃ মসজিদ ও মাদরাসার সম্পদ হইতে সকল আয়, আদায়কৃত সকল দান, চাঁদা ইত্যাদি সঠিকভাবে রশিদ বহির মাধ্যমে সংগৃহিত হইবে এবং উল্লেখিত সকল অর্থই ৩ (তিন) দিনের মধ্যে মসজিদ ও মাদরাসা তহবিলে জমা দিতে হইবে। দ্রুপ একই নিয়মে মসজিদ ও মাদরাসার সমস্ত ব্যয় ভাউচার ভিত্তিতে খরচ করিতে হইবে। রশিদ বহি ও ভাউচারে সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষর থাকিতে হইবে তাহা না হলে উক্ত রশিদ/ভাউচার গ্রহনযােগ্য হইবে না।

ধারা ১৫ (খ) -ঃ
মসজিদ ও মাদরাসা অথবা ইহার চত্ত্বরকে কোন প্রকারেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাইবে না অথবা ইহা রাজনৈতিক দলের বা কোন সংগঠনের কেন্দ্রস্থলও হইবে না। যদি প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক, কর্মকর্তা বা ছত্র অত্র প্রতিষ্ঠানে কোন প্রকার রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সহিত জড়িত, সম্পর্ক রাখেন বা রাখে তবে কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত মােতাবেক তাহাকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রাথমিক ভাবে কর্মবিরতি ও পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠান হইতে অব্যহতি দেওয়া যাইতে পারে।

ধারা ১৫ (গ) -ঃ সমস্ত সিদ্ধান্ত অত্র গঠনতম্বের অন্য কোন ধারা/উপধারার পরিপন্থী না হইলে অধিক সংখ্যক কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্যের ঐক্যমতের ভিত্তিতে গৃহীত হইবে। কোন বিতর্কিত বিষয়ে সমান সমান ভােটের কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসুবিধা দেখা দিলে, সভাপতি সাহেব একটি অতিরিক্ত ভােট প্রদান। করিয়া বিষয়টি মীমাংসা করিতে পারিবেন ।

ধারা ১৬- মাদরাসা সংক্রান্তঃ
নামঃ এই প্রতিষ্ঠানের নাম “আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মদিনাতুল উলুম (মাদরাসা)।
অবস্থানঃ ব্যাংক কলােনী, “ওয়ার্ড নং -৫, সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ।
পরিচিতিঃ এই গঠনতন্ত্রে প্রতিষ্ঠান শব্দ দ্বারা "আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মদিনাতুল উলুম (মাদরাসা) ওয়ার্ড নং-৫, ব্যাংক কলােনী, সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ" বুঝাইবে।। এই প্রতিষ্ঠানের মূল আদর্শ দরসে নিযামী দারুল উলুম দেওবন্দ তথা কওমী মাদরাসা শিক্ষাবাের্ডের আদশই আদর্শ বলে স্বীকৃত হইবে, যাহা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত অর্থাৎ নবী আকরাম (সাঃ)। তাহার সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ), তাবেয়ীন এবং আইয়িম্মায়ে মুজতাহিদীন গ্রহণ করিয়াছেন। এই আদর্শের ভিত্তিতে- ইহার যাবতীয় কার্য সংরক্ষিত ও পরিচালিত হইবে, কিন্তু এই প্রতিষ্ঠান দলীয় রাজনীতি বা রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্রব মুক্ত থাকিবে।

ধারা ১৭ (সতের) ঃ উদ্দেশ্যাবলী ঃ
উদ্দেশ্যঃ এই প্রতিষ্ঠান কুরআন হাদীসের আলােকে পরিচালিত হইবে । কুরআন হাদীস পরিপন্থী কোন পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন করার ক্ষমতা কাহারাে থাকিবে না।

ধারা ১৮ (আঠার) - লক্ষ্যাবলীঃ
ধারা ১৮ (ক) -ঃ শিশু বিভাগ হইতে সর্বোচ্চ দাওরায়ে হাদীসসহ (টাইটেল) ভবিষ্যতে আরাে উচ্চশিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থাবলী, যেমনঃ তাখাচ্ছুছ অর্থাৎ পবিত্র কুরআন তাফসীর, ইতা এবং আরবী সাহিত্য বিভাগসমূহ চালুর সিদ্ধান্ত আছে। ইসলামী শিক্ষা তথা বিশুদ্ধ কুরআন শিক্ষা, হিফজুল কুরআন, কিতাব বিভাগ ও অন্যান্য আবশ্যকীয় প্রয়োজনীয় বিষয়াদি "আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মদিনাতুল উলুম (মাদরাসা) সম্পাদিত নেসাব অনুসারে মূল আরবী ভাষার মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হইবে। পাশা পাশি ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজী ও গণিত বিষয়ে শিক্ষা দানের ব্যবস্থা থাকিবে হইবে । গরীব ও অসচ্ছল ছাত্রদের কিতাব-পত্র, খাবার ইত্যাদি মাদরাসার গােরাবা তহবিল হইতে যথা সম্ভব ব্যবস্থা করা হইবে।

ধারা ১৮ (খ) -ঃ ইলম ও আমলের মাধ্যমে মুসলিম জনসাধারণের মধ্যে আল্লাহ্ তায়ালার ভয় ও মহাব্বত এবং পরস্পর হামদরদী ও দয়ার ভাব পয়দা হওয়া। অধিকন্ত্র তাহাদের মধ্যে জাতি ও দেশের জন্য কোরবানীর প্রেরণা এবং ইসলামী পরিবেশ, ইসলামী জীবন ব্যবস্থা ও জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ পয়দা করা।

ধারা ১৮ (গ) -ঃ ইসলামের প্রচার ও শিক্ষাদানে তা'লীম ও তাবলীগ, উপযুক্ত উস্তাদ, উলাম, হাফেজ ক্বারী, মুবাল্লেগ ও দ্বীনের খাদেম তৈরী করা এবং তাহাদিগকে প্রশিক্ষণ দিয়া জাতীয় খেদমতের উপযােগী। করা।

ধারা ১৯ (উনিশ) - মাদরাসার শিক্ষকমন্ডলী হইতে কার্যকরী পরিষদে সদস্যপদ নির্বাচনঃ
মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাদরাসার উস্তাদগণের সহিত পরামর্শক্রমে মাদরাসার উস্তাদগণের প্রতিনিধি। স্বরূপ মাদরাসার একজন সিনিয়র উস্তাদকে কার্যকরী কমিটির সাধারণ সদস্য হওয়ার জন্য নির্বাচন করিতে পারিবেন।

ধারা ২০ (বিশ) -ঃ শিক্ষক নিয়ােগে শিক্ষকতার যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার মাপকাঠি ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ােগ প্রাপ্তির জন্য সকল শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দকে তাহাদের শিক্ষার সনদপত্র সহ সকল প্রকার প্রয়ােজনীয় কাগজপত্র কার্যনির্বাহী পরিষদের বরাবর দাখিল করিতে হইবে। উল্লেখ্য পূর্বে নিয়োগ প্রাপ্ত সকল শিক্ষক ও কর্মচারী বৃন্দের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হইবে। অন্যথায় কর্যনির্বাহী পরিষদ তাহাদের নিয়ােগপত্র বাতিল করিবার ক্ষমতা রাখিবেন।

ধারা ২১ (একুশ) - মােহতামীম/প্রিন্সিপালঃ
শিক্ষাগত যােগ্যতাঃ কমপক্ষে দাওরায়ে হাদীস দরজায়ে সানিয়া (২য় বিভাগ) পাশ হইতে হইবে।
অভিজ্ঞতাঃ তাহাকে অন্য যে কোন কওমী মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে ৩ (তিন) বছর অথবা ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে ন্যূনতম ৫(পাঁচ) বৎসর দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত পাঠদানসহ ন্যূনতম ৫ (পাঁচ)। বৎসরের প্রশাসনিক দক্ষতা থাকিতে হইবে।

ধারা ২২ (বাইশ) - নায়েবে মােহতামীম/ভাইস প্রিন্সিপালঃ
শিক্ষাগত/যোগ্যতাঃ কমপক্ষে দাওরায়ে হাদীস দরজায়ে সানিয়া (২য় বিভাগ) পাশ হইতে হইবে।
অভিজ্ঞতাঃ নায়েবে মেহতামীম, নাযেমে তা'লীমাত/শিক্ষা সচিব পদে কমপক্ষে ৩ (তিন) বৎসরের অভিজ্ঞতাসহ দাওরায়ে হাদীস ক্লাশে পাঠদানের অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে।

ধারা ২৩ (তেইশ) - নাযেমে তা'লীমতি শিক্ষা সচিবঃ
শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ কমপক্ষে দাওরায়ে হাদীস দরজদায়ে সানি (২য় বিভাগ) পাশ থাকিতে হইবে।
অভিজ্ঞতাঃ যে কোন কওমী মাদরাসায় নাযেমে তা'লীমাত হিসেবে দুই বৎসরের অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে।

ধারা ২৪ (চবিবশ) - আরবী বিভাগের মুদাররিস (সহকারী শিক্ষক)-ঃ
দাওরায়ে হাদীস দর (য়ে সানিয়া (২য় বিভাগ) পাশ হইতে হইবে। তবে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত পড়ানাের অভিজ্ঞতা থাকিলে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে। উল্লেখ্য যে, নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকগণের মধ্য হইতে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে বিবেচিত হইবে।

ধারা ২৫ (পচিশ) - হিফজ বিভাগের শিক্ষকঃ
শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ তাজবীদসহ বিশুদ্ধ কুরআন তেলাওয়াতকারী হাফিজুল কুরআন হইতে হইবে। নিয়োগপ্রাপ্ত হাফিজগণের মধ্য হইতে যােগ্যতা ও অভিজ্ঞতার জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সিনিয়র বিবেচিত হইবে।

ধারা ২৬ (ছাব্বিশ) - নুরানী ও নাজেরী বিভাগের শিক্ষকঃ
শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ নূরানী পদ্ধতিতে কৃানীয়ানা পাশসহ মােআল্লিম ট্রেনিং প্রাপ্ত হইতে হইবে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কম পক্ষে ১ (এক) বৎসরের অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে।

ধারা ২৭ (সাতাশ) - সাধারণ শিক্ষকঃ
শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ কমপক্ষে স্নাতক পাশ হইতে হইবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে সকল পর্যায়ে ২য় বিভাগ/ক্লাশে উওীর্ণ হইতে হইবে। কোন পর্যায়ে ৩য় বিভাগ/ক্লাশ গ্রহণ যােগ্য হইবে না এবং সুন্নাতের পাবন্দীসহ নামাজী হইতে হইবে।

ধারা ২৮ (আঠাশ) - করণীক কাম সহকারী শিক্ষক ও হিসাবরক্ষকঃ
শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ কমপক্ষে এইচ, এস, সি ২য় বিভাগে পাশ হইতে হইবে। হিসাবরক্ষকের ক্ষেত্রে হিসাববিজ্ঞানসহ কম্পিউটারে পারদর্শী হওয়া বাঞ্চনীয় এবং সুন্নাতের পাবন্দীসহ নামাজী হইতে হইবে।

ধারা ২৯ (উনত্রিশ) - পিয়ন কাম খাদেমঃ
শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ অষ্টম শ্রেণী পাশ ও সুন্নাতের পাবন্দীসহ নামাজী হইতে হইবে।

ধারা ৩০ (ত্রিশ) নিয়োগ প্রাপ্তিঃ
প্রিন্সিপাল, ভাইস প্রিন্সিপাল, সিনিয়র শিক্ষক, সহঃ শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষক, হিফজ বিভাগের শিক্ষক, নূরানী/নাজেরা বিভাগের শিক্ষক ও কর্মচারী পদসমূহ নিয়ােগের ক্ষমতা কাৰ্য্য করী পরিষদের হাতে ন্যাস্ত থাকিবে। শিক্ষকগণের নির্ধারিত ছুটির (ত্রিশ দিন) অধিক ছুটি কোন শিক্ষক বা কর্মচারী ভােগ করিলে তাহার ব্যাপারে কার্যকরী পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন।

ধারা ৩০ (ক) - প্রিন্সিপালের দায়িত্বঃ
প্রিন্সিপাল সাহেব প্রতিষ্ঠান চলাকালীন পূর্ণ সময় তাহার দপ্তরে উপস্থিত থাকিবেন। মাদরাসার আভ্যন্ত রীন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাহার অধীনে বিভিন্ন বিভাগ থাকিবে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রসার ঘটায় তিনি ভাইস প্রিন্সিপালের সহযােগিতা গ্রহন করিবেন এবং অভিজ্ঞ মুদাররিসগণের মধ্য হইতে একেক জনকে এক একটি বিভাগের দায়িত্বভার অর্পন করিবেন এবং তাহাদের নিকট হইতে। জবাবদিহিতা গ্রহন করিবেন। যা দ্বারা দায়িত্ব পূর্ণভাবে এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিভিন্ন বিভাগসমূহের কার্য পরিচালিত হইবে। প্রিন্সিপাল সাহেবের সহযােগিতার জন্য মাদরাসার অভিজ্ঞ ও উপযুক্ত উস্তাদগণের সমম্বয়ে মসলিসে মোদাররেস নামে একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকিবে। এই পরিষদ একটি মালিসে শুরার মর্যাদা বহন করিবে । প্রিন্সিপাল নিজা সহযােগিদের পরামর্শক্রমে জরুরী সহায়েতসমূহ জারী করিতে পারিবেন। কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকরী সংসদের সিদ্ধান্ত মােতাবেক বাস্তবায়িত হবে। প্রন্সিপাল মাদরাসার শিক্ষাসহ যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অধিনস্ত সমস্ত সহকারীর সমম্বরে। যাবতীয় কার্য সম্পর্কে কমিটির নিকট জিম্মাদার থাকিবেন। এ ছাড়াও প্রিন্সিপাল সাহেব নিম্ন লিখিত দায়িত্বগুলি পালন করিবেন।

ধারা ৩০ (খ) -ঃ অধিনস্ত উস্তাদগণের দায়িত্ব পালনের তদারকী করিবেন।

ধারা ৩০ (গ) -ঃ তিনি আভ্যন্তরীন অর্থ বিভাগের দায়িত্ব পালন করিবেন। যেমনঃ ছাত্রদের ফ্রি খানা, বাের্ডিং এবং অন্যান্য বিভাগসমূহ থাকিবে। উক্ত বিষয় সমূহের দিকনির্দেশনা কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

ধারা ৩০ (ঘ) -ঃ ছাত্রদের ভর্তি ও বহিস্কারের দায়িত্ব বহন করিবেন। এ ব্যাপারে দিক নির্দেশনা কার্যকরী। পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

ধারা ৩০ (ঙ) -ঃ যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়ােজনীয় বিষয় মসলিসে মােদাররেসের পরামর্শ গ্রহণ করিবেন।

যারা ৩০ (চ) -ঃ আভ্যন্তরীন এন্তেজাম ও দৈনন্দিন কার্যাবলী দেখাশুনা করিবেন এবং মাদরাসার নিয়মতান্ত্রিকতা ও শৃংখলা রক্ষার জিম্মাদার থাকিবেন।

ধারা ৩০ (ছ) -ঃ মােদাররিসগণ ও কর্মচারীগণের যােগ্যতা ও সুষ্ঠু কার্য পরিচালনা, কর্তব্য পালন ও আইন। | শৃংখলা, নৈতিক অসদাচরন ইত্যাদি সম্পর্কে প্রতি বছর রজব মাসে একটি গােপনীয় রিপাের্ট তৈরী। করিবেন। উক্ত রিপােট প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর কার্যনির্বাহী সভায়া দাখিল করিবেন।

ধারা ৩০ (জ) -ঃ তিনি অর্থায়নে কমিটির সাথে পূর্ণ সহযোগিতা করিবেন।

ধারা ৩০ (ঝ) -ঃ প্রিন্সিপাল সাহেব আবাসিক শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করিবেন।

ধারা ৩১ (একত্রিশ) -ঃ প্রিন্সিপাল সাহেবের ছুটির সভাপতি সাহেবের অনুমোদনক্রমে ছুটি ভােগ করিবেন। | বিশেষ প্রয়োজনে ছুটি ভােগ করিলে সে ক্ষেত্রে পরবর্তীতে সভাপতি সাহেবের নিকট ভােতাপেক্ষ অনুমােদন করাইয়া নিবেন। ইহা ছাড়া দীর্ণ মেয়াদী ছুটির প্রয়ােজন হইলে কমপক্ষে ১ (এক) মাস পূর্বে কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুমােদন গ্রহণ করিতে হইবে।

ধারা ৩২ (বত্রিশ) -ঃ মসজিদের খতিব ও মাদরাসার মাহতামীম (প্রিন্সিপাল)/ শিক্ষক/কর্মচারীগণের চাকুরী হইতে অব্যহতিঃ

ধারা ৩২ (ক) - মসজিদের খতিব ও মাদরাসার মােহতামীম (প্রিন্সিপাল) এর অব্যহতিঃ
মসজিদের খতিব ও মাদরাসার মােহতামীম (প্রিন্সিপাল) বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত, কর্মে অদক্ষতা, কর্তব্যে অবহেলা, অসৎ আচরন এবং প্রচলিত আইন পরিপন্থি ইত্যাদি বিষয়ে প্রাপ্ত অভিযােগের পরিপেক্ষিতে সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক সাহেব কার্যকরি কমিটির সভা আহবান করিবেন। কার্যকরি পরিষদের অধিকাংশ সদস্যের ঐক্যমতের ভিত্তিতে তিনি সাময়িক ভাবে দোষী প্রমাণিত হইলে সভাপতি সাহেব জরুরী ভিত্তিতে ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে কারণ দর্শানাের নােটিশ প্রদান করিবেন। জবাব না দিলে আরো ২ (দুই) বার অনুরূপভাবে সময় প্রদান করিয়া নােটিশ প্রদান করিবেন। এরপরও জবাব পাওয়া না গেলে বা প্রাপ্ত জবাব সন্তোষজনক না হইলে কার্যকরি পরিষদের অধিকাংশের ঐক্যমতের ভিত্তিতে লিখিতভাবে অব্যহতি প্রদানের প্রয়ােজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

ধারা ৩২ (খ) - অন্যান্য শিক্ষক/কর্মচারীগণের চাকুরী হতে অব্যহতিঃ মাদরাসার প্রিন্সিপাল যে কোন বিভাগের শিক্ষক/কর্মচারীগণকে মাদরাসার স্বার্থের পরিপন্থি কোন কর্মে লিপ্ত দেখিলে অর্থাৎ বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাক, কর্মে অদক্ষতা, কর্তব্যে অবহেলা, অসৎ আচরণ এবং প্রচলিত আইন পরিপন্থি ইত্যাদির বিষয় প্রমাণিত হইলে প্রয়ােজন বোধে উক্ত শিক্ষক/কর্মচারীকে কর্মদিনের বিরত রাখিয়া কার্যকরি পরিষদে রিপাের্ট পেশ করিবেন। কার্যকরি পরিষদ প্রয়ােজনে উক্ত শিক্ষক/কর্মচারীকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করিয়া কারণ দর্শানাের নােটিশ প্রদানের ব্যবস্থা করিবেন। উক্ত নােটিশের পরিপ্রেক্ষিতে জবাব না পাইলে অনুরূপভাবে আরাে ২(দুই) বার একই রূপ সময় প্রদান করিয়া নােটিশ প্রদান করিবেন। এরপরও জবাব না দিলে বা প্রদেয় জবাব সন্তে যিজনক না হইলে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লিখিতভাবে অব্যহতি প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

ধারা ৩৩ (তেত্রিশ) - ভাইস প্রিন্সিপালের দায়িত্বঃ
প্রিন্সিপাল সাহেবের অবর্তমানে ভাইস প্রিন্সিপাল, প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করিবেন। প্রিন্সিপাল সাহেব বিশেষ প্রয়ােজনের সুনির্দিষ্ট কোন দায়িত্ব ভাইস প্রিন্সিলকে প্রদান করিতে পারিবেন। ভাইস প্রিন্সিপাল সাহেবকে অবশ্যই আবাসিক শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করিতে হইবে।

ধারা ৩৪ (চৌত্রিশ) - নাযেমে তা'লিমাত/শিক্ষাসচিবঃ
মাদরাসার নাযেমে তা'লিমাতকে নিম্ন বর্ণিত গুনাবলী সম্পন্ন হইতে হইবে।
(ক) মাদরাসার মত ও পথের অনুসারী হওয়া।
(খ) ইলমে দ্বীনের বিশারদ হওয়া।
(গ) তাকওয়া ও পরহেজগারীতে স্বীয় শিক্ষকগণের মধ্যে বিশিষ্ট এবং সর্বজন মান্য হওয়া।
(ঘ) বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন ও নিভকি হওয়া।
(ঙ) বিনয়ী ও সৎ স্বভাবী হওয়া ।
(চ) শিক্ষার নিয়ম পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ হওয়া।
(ছ) নাযেমে তালিমাত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব বহন করিবেন। তিনি কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত শিক্ষা সচিবকে সকল বিষয়ে সার্বিক সহযোগীতা করিবেন।

ধারা ৩৫ (পয়ত্রিশ) - মাদরাসার অন্যান্য শিক্ষকগণের নিজ নিজ পদের প্রয়ােজনীয় যােগ্যতাঃ
(ক) মাদরাসার মত ও পথের অনুসারী হওয়া।
(খ) ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে শরীয়তের অনুসারী ও বিশ্বস্ত হওয়া।
(গ) আলেমের মর্যাদার খেলাফ চাল চলন ও সংশ্রব এবং যদ্বারা মাদরাসার সুনাম ক্ষুন্ন হয় তাহা। হইতে দুরে থাকা।
(ঘ) মাদরাসার কোন স্থায়ী শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সময়ে কার্যকরি পরিষদের পূর্বানুমতি ব্যতীত কোথাও কোন চাকুরী করিতে পারিবেন না। সর্বক্ষণ মাদরাসায় থাকিতে হইবে।

ধারা ৩৬ (ছত্রিশ) ও অন্যান্য শিক্ষক/কর্মচারীগণের ছুটিঃ
শিক্ষকগণ প্রিন্সিপাল সাহেবের নিকট হইতে লিখিত দরখাস্তের মাধ্যমে অনুমােদনক্রমে ছুটি গ্রহণ করিবেন।

ধারা ৩৭ (সাইত্রিশ) - মাদরাসার ছাত্র ভর্তি সংক্রান্তঃ
(ক) বার্ষিক পরীক্ষায় ও ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্রদের প্রিন্সিপাল, ভাইস প্রিন্সিপাল ও নাযেমে তা'লিমাতের পাশাপাশি কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক মনােনিত ব্যক্তির অনুমােদন সাপেক্ষে ভর্তি করিতে হইবে।
(খ) ভর্তির পর কার্যকরি পরিষদ কর্তৃক যাচাই সাপেক্ষে মাদরাসার এতিম, অসহায় ছাত্রদের জন্য সামর্থ্য অনুসারে তাহাদের খাদ্য, কিতাব ও বসবাসের প্রয়ােজনীয় বন্দোবস্ত মাদরাসার পক্ষ হইতে করা যাইতে পারে।
(গ) মাদরাসার ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা সংক্রান্ত ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ যে সব নির্দেশাবলী, আইন ও নিয়ম জারি করিবেন ছাত্রদিগকে উহা অবশ্যই মানিতে হইবে। চাল-চলন, বেশভূষায় ছাত্রদিগকে অবশ্যই শরীয়তের পাবন্দ হইতে হইবে। বিরুদ্ধাচরনকারী ও হঠায়ী ছাত্র বহিস্কারের যােগ্য। হইবে।

ধারা ৩৮ (আটত্রিশ) - মাদরাসার শিক্ষা বৎসরঃ
মাদরাসার শিক্ষা বৎসর সাধারণতঃ ১১ই শাওয়াল হইতে আরম্ভ হইয়া ২৫শে শা'বান সমাপ্ত হইবে। কিন্তু হিল ও মক্তব বিভাগের শিক্ষা বৎসর ২৫শে রমজান শেষ হইবে। মাদরাসার অর্থ বছর। সরকারী নিয়মানুসারে ১লা জুলাই হইতে আরম্ভ হইয়া ৩০শে জুন সমাপ্ত হইবে। মাদরাসার পাঠদান। ও ব্যবস্থাপনার কাজ প্রত্যেক কর্ম দিবসে নিয়মিত চলিবে।

ধারা ৩৯ (ঊনচল্লিশ) - মাদরাসার পরীক্ষাঃ
অত্র মাদরাসার বৎসরে ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক ও বার্ষিক এই তিনটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হইবে। কিন্তু এই সব পরীক্ষা ব্যতীত মাসিক পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হইবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ছাত্রদের প্রমোশনযােগ্য হওয়া, না হওয়া নিরুপিত হইবে। সাধারণ ফান্ডের অর্থ সং চুলান সাপেক্ষে পরীক্ষায়। সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তির ভিত্তিতে প্রতি ক্লাশের প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ছাত্রদের এবং উলামা মঙালিসে শুরার সুপারিশক্রমে বিভিন্ন ক্লাশ হইতে মেধাবী, এতিম, গরীব, অসহায় ছাত্রদের ফ্রি খান। জারীর ব্যবস্থা করা হইবে।

ধারা ৪০ (চল্লিশ) - মাদরাসার ছুটিঃ
(ক) ২২ শে শা'বান হইতে ১০ই শাওয়াল পর্যন্ত (হিফজ ও মক্তব বিভাগ ব্যতীত) মাদরাসা বন্ধ থাকিবে।
(খ) হিফজ ও মক্তব বিভাগ বার্ষিক পরীক্ষার পর ১(এক) সপ্তাহ এবং ২৫ শে রমজান হইতে ১০ হ শাওয়াল পর্যন্ত বন্ধ থাকিবে।
(গ) ঈদুল আহা উপলক্ষ্যে ১২ই জিলহজ্ব হইতে ২৫ শে জিলহজ্ব পর্যন্ত, ত্রৈমাসিক ও ষান্মাসিক পরীক্ষার পর ৬ (ছয়) দিন করিয়া এবং প্রতি শুক্রবার মাদরাসার সাধারণ ছুটি থাকিবে। স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসসহ ইসলাম ধর্ম সম্মত সকল প্রকার জাতীয় ছুটিতে মাদরাসার ক্লাশসমূহ বন্ধ থাকিবে।
(ঘ) উল্লেখিত ছুটি ছাড়া বৎসরে বিভিন্ন সময়ে মাদরাসার স্বার্থের খাতিরে উলামা পরিষদের পরামর্শক্রমে প্রিন্সিপাল সাহেব আরাে ছুটি দিতে পারিবেন।

ধারা ৪১ (একচল্লিশ) - অবসর গ্রহণকালীন ভাতা/এককালীন অনুদানঃ
স্বাস্থ্য/বার্ধক্য জনিত কারণে অবসর গ্রহণ করিলে বা মৃত্যুজনিত কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক/কর্মচারীকে এককালীন ১২ (বার) মাসের মূল বেতনের (সর্বশেষ গৃহীত) সমপরিমাণ টাকা প্রদান করা হইবে। মৃত ব্যক্তির টাকা তাহার গ্রহণযােগ্য উত্তরাধিকারের নিকট প্রদান করা হইবে। ৩০ (ত্রিশ) বছর চাকুরীর পর স্থায়ীপদে নিয়ােজিত কোন শিক্ষক/কর্মচারী স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করিতে চাহিলে তিনি অবসর গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং অবসরের সময় এক বছর বা ১২ (বার) মাসের মূল বেতনের (সর্বশেষ গৃহীত) সমপরিমাণ টাকা এককালীন পাইবেন।

উপরে বর্ণিত শর্তের আওতায় খন্ডকালীন শিক্ষকগণকে অবসর কালীন সময়ে এককালীন ৬ (ছয়) মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ টাকা প্রদান করিতে হইবে।

এই গঠনতন্ত্রটি ২১ সেপ্টেম্বর ২০১০ তারিখের সাধারণ সভায় অনুমােদিত হওয়ায় উক্ত তারিখ। হইতেই কার্যকর হইবে। অত্র গঠনতন্ত্রটি ১৪ পৃষ্ঠা ও ৪১(একচল্লিশ)টি মূলধারায় লিপিবন্ধ হইল। এই গঠনতন্ত্র মূল গঠনতন্ত্রের সংশােধিত গঠনতন্ত্র হিসেবে পরিগনিত হইবে।